নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশ এখন নতুন সরকার গঠনের অপেক্ষায়। সাধারণ মানুষের মুখে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত দাবি তিনটি–নিরাপত্তা, বাজার স্থিতিশীল করা এবং কর্মসংস্থান।
ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ চাইছেন, দিনমজুররা আশা করছেন খাদ্যপণ্যের দাম কমবে, আর তরুণ প্রজন্ম স্বপ্ন দেখছে নিরাপদ ও কর্মসংস্থানমুখী রাষ্ট্রের। উৎসবমুখর ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশে নির্বাচন শেষ হওয়ায় জনমনে আশা জাগলেও অনেকের মতে আসল পরীক্ষা শুরু হয়েছে–নতুন প্রশাসন কত দ্রুত দৈনন্দিন জীবনের চাপ ও অনিশ্চয়তা দূর করতে পারবে।
কাঠ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম (৩৭) বলেন, ‘বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের দ্বারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। প্রথম ১০০ দিনে সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত জননিরাপত্তা ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।’
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। রিকশাচালক মোহাম্মদ মুর্শিদুল ইসলাম (৬২) বলেন, ‘আমার চাওয়া খুব সামান্য। শান্তিতে থাকতে চাই এবং দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে চাই।’
মাছ বিক্রেতা শাকিবের (১৮) মতে, আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়ার কারণে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ এখন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের অপেক্ষায়।
ফুটপাত হকার মুর্শীদা বেগম (৩২) বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেলের টিকিট সস্তা হলেও চিকিৎসা পেতে রোগীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।’
পেশায় কামার মোহাম্মদ মনি (৫৪) বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন সরকার দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিককে সমান চোখে দেখবে।’
রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা ব্যাপক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ বাজিদ বলেন, ‘গত ১৫ বছরে গড়ে ওঠা ‘ভয়-ভীতি চালিত’ রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করাই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।’ এ ছাড়া নদী ও বায়ুদূষণ রোধে প্রথম ১০০ দিনে কার্যকর পদক্ষেপ চান তিনি।
মানুষ দুর্নীতিবিরোধী কঠোর ব্যবস্থা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সুরক্ষা এবং অসাম্প্রদায়িক ও নারীবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানিয়েছেন। মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনি এবং ‘মোরাল পুলিশিং’ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে বলেও মনে করেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কানন নাহার প্রোমা বলেন, ‘শান্তি বজায় রাখা, বাজার স্থিতিশীল করা এবং নারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সরকারের প্রথম কাজ।’


