নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় বোরো ধানে পেনিকেল ব্লাইট রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মাঠের পর মাঠ ধানের শীষ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।
উপজেলার বিভিন্ন ব্লকের প্রায় ১৫ হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে কয়েকশ কৃষক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কিছুদিন আগে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে ধানে ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ হয়েছিল। সেই ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে পেনিকেল ব্লাইট। উপজেলার ছোট কালিয়া, বড় কালিয়া, বাগডাঙ্গা ও সালামাবাদ বিলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত ক্ষেত থেকে কোনো ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, সংকটকালে মাঠে কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো পরামর্শ বা সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।
পাটনা গ্রামের কৃষক সুব্রত ভৌমিক, সালবরাত গ্রামের সমীর বিশ্বাস ও উত্তম বিশ্বাস জানান, সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। টোনা গ্রামের মশিয়ার রহমান, রামনগর গ্রামের সুভাষ এবং চাঁদপুর গ্রামের কৃষাণী কাজল খানও একই অভিযোগ করেন। তারা বাধ্য হয়ে স্থানীয় কীটনাশক দোকানদারদের দেওয়া ওষুধ ব্যবহার করছেন। কিন্তু তাতে কোনো সুফল মিলছে না।
তবে পেনিকেল ব্লাইট রোগের সংক্রমণের বিষয়ে এখনো অবগত নন বলে জানিয়েছেন কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তাকে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য দেননি।
অন্যদিকে নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কালিয়া উপজেলায় ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হেক্টর জমির ফসল পেনিকেল ব্লাইট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হেক্টর জমিতে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি আক্রান্ত জমিতেও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি দাবি করেন।


