নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম হত্যার আড়াই বছর পর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুইজন দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
রোববার বিকালে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানান।
পিবিআই জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুরের আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুর থেকে আতিকুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের ওপর ন্যস্ত হয়।
তদন্তে জানা গেছে, নিহত আতিকুল ইসলাম আলীগঞ্জ কাজীপাড়া বাজারে বিকাশ ও মোবাইল রিচার্জের ব্যবসা করতেন। ঘটনার দিন সকালে একই এলাকায় ব্যবসা করা আলী সম্রাট নামে এক ব্যক্তি আতিকুলের কাছ থেকে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তিনি আতিকুলকে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় ডেকে নেন।
পরে গ্রেপ্তার আসামিদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচ আসামিসহ আরও কয়েকজন আতিকুলের কাছ থেকে ফেরত দেওয়া টাকা ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেট, বুক ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়।
পিবিআই আরও জানিয়েছে, গত ১৩ মে ভোরে মূল আসামি মো. শান্ত হোসেনকে (২৭) আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করে এবং জড়িত অন্য আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। ওই দিনই তাকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ মে অভিযান চালিয়ে মো. আহাদ আলী (২৩), রুবেল (৩২), আশিক (২৩), জুম্মন (২৩) ও জাহিদ হাসান শুভকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ১৪ মে আদালতে পাঠিয়ে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রোববার রিমান্ড শেষে আদালতে পাঠানো হলে তাদের মধ্যে আহাদ আলীও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


