প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা জাতি, রাষ্ট্র ও সভ্যতা বিনির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি উল্লেখ করে ধর্মীয় মূল্যবোধ পরিপন্থী সিদ্ধান্তসমূহ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী সব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।’
শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হলে জাতির ভবিষ্যৎ বিপর্যস্ত হবে।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পশ্চিমা সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার নামে সমকামিতা, ট্রান্সজেন্ডার ও যৌনতা বিষয়ক শিক্ষা ঢোকানো হচ্ছে, যা মুসলিম সমাজের মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার দাবি, ১ লাখ ১৮ হাজার বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করা ২ কোটি শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠনের মৌলিক ভিত্তি নষ্ট করার অধিকার কারও নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ মুসলিম এবং সবাই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর উম্মত হিসেবে পরিচয় বহন করেন। তাই শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত চরিত্র ও নৈতিকতা গঠন, যা দেহ, মন ও আত্মার সমন্বিত উন্নয়ন ঘটায়।’
পশ্চিমা শিক্ষা দর্শন চাপিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিনের মুসলিম ঐতিহ্য ও সভ্যতাকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রশ্ন করতে হবে–আমরা কে? আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কীভাবে গড়ে উঠবে?’
আয়োজকরা জানান, জাতীয় সেমিনারে দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং তা বাস্তবায়নে সরকারের সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।


