পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। রোববার পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভি নিউজের বরাত দিয়ে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডন এ তথ্য জানিয়েছে।
পাক-আফগান সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই, শনিবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল দোহায় গিয়ে আফগান তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন। মূলত সীমান্ত সহিংসতা বন্ধ ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগ দূর করার জন্য আয়োজন হয় এ সংলাপের। এতে সহায়তা করে কাতার।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে পিটিভি নিউজের এক্স পোস্টে বলা হয়, ‘পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় উভয় দেশ একে অপরের প্রতি যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’
এছাড়া দুই দেশ একটি স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি প্রক্রিয়া চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই পোস্টে আরো জানানো হয়েছে, উভয় দেশ আগামী দিনে এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও তার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য পরবর্তী আলোচনা করবে।
পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রাখলেও, পাকিস্তান বারবার বলেছে যে তারা উত্তেজনা বৃদ্ধি চায় না। তবে, তারা আফগান তালেবান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতি পালন এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।
কাতারের উদ্যোগে এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় ওই সংলাপ চলে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা ধরে।
এর আগে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘাতের জেরে শনিবারই আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত তিন আফগান ক্রিকেটার নিহত হন। হামলায় প্রাণ হারান আরও পাঁচজন ।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) জানিয়েছে, একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নিতে পূর্ব পাকতিকার শরানা এলাকায় গিয়েছিলেন তারা। সেখান থেকে উরগুনে নিজেদের বাড়িতে ফেরার পর হামলায় শিকার হন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শুক্রবার পাকিস্তানি বিমান হামলায় আফগানিস্তান সীমান্তে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে কবীর, সিবঘাতুল্লাহ এবং হারুন এবিসির জাতীয় দলের খেলোয়াড়।
এমন আবহে দোহায় ওই শান্তি সংলাপ অনুষ্ঠিত হলো।


