বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ নিয়ে ‘উদ্বেগ ও আশাবাদ’ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাংবাদিক ও রাজনীতিকরা।
সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব লর্ডসে ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তারা বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
হাউস অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস পলা মঞ্জিলা উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: কীভাবে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে মসৃণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়’।
বক্তারা বলেন, অভ্যুত্থানের পর নৈতিক দায়বদ্ধতা ছিল একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। তারা সতর্ক করে দেন, নির্বাচন বিলম্বিত হলে বা গণতান্ত্রিক প্রস্তুতিতে ঘাটতি দেখা দিলে তা নতুন রাজনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যারোনেস পলা মঞ্জিলা উদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, যাতে দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।’
লেবার পার্টির এমপি রোশনারা আলী ও রূপা হক বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন।’
সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম ইয়াজউদ্দিন আহমেদের উপদেষ্টা ও গবেষক মোখলেসুর রহমান চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং খুন-গুমের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঘনঘন সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
বিখ্যাত চিকিৎসক শফি আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার আনা জরুরি।’
ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাব সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী আলোচনা পরিচালনা করে বলেন, ‘বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার একমাত্র উপায় হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে জাতিকে আশার আলো দেখানো।’
কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক এমপি আনেওয়ারা আলী বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
লেবার পার্টির পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার জাহিন আহমদ বলেন, যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন বলেন, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কাজ করছে।
ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মুনজের আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতনের পর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আশানুরূপ পরিবর্তন ঘটেনি। জনগণ নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে অর্থবহ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যায়নি।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রবীণ কমিউনিটি নেতা শাহগীর বখত ফারুক, ব্যারিস্টার রেজা চৌধুরী, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম, সেক্রেটারি আরিফ আল মাহফুজ, সাবেক সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম, ট্রেজারার মাহবুবুল করিম সুয়েদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সামসুর রহমান সুমেল, সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম অভি, যুগ্ম সম্পাদক তানভীর আহমেদ, জাহেদ আহমদ, আব্দুল বাসিত চৌধুরী, আক্তার হোসেন টুটুল, ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান, সাংবাদিক এমি হোসেন ও এমদাদুল হক প্রমুখ।
আলোচনার শেষাংশে সর্বসম্মতিক্রমে বলা হয়, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।


