জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি হলে তার দায় প্রধান উপদেষ্টাকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি ভালো না। ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে রাজনীতির বর্তমান এবং ভবিষ্যতের পথরেখা শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘দেশ অন্য পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন দিন। যদি ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না দিতে পারেন তাহলে পরবর্তীতে যদি কোনো গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি হয় এর দায়ভার প্রধান উপদেষ্টাকে নিতে হবে।’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না জানিয়ে এনসিপির এই মুখ্য সংগঠক বলেন, ‘অনেকেই বলেছিলেন আওয়ামী লীগের ৫ লাখ নেতাকর্মীর প্রাণ যাবে। আমরা কিন্তু আওয়ামী লীগের গায়ে হাত দেইনি। কিন্তু তারা যদি বাধা দিতে আসে, কঠোরভাবে প্রতিহত করব।’
এ সময় তিনি দুটি দলকে নির্বাচনে না আনতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপি এবং জামায়াতের উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘গণভোট আগে হবে না পরে হবে, এটা জামায়াত ও বিএনপির কুতর্ক। এটা থেকে বেরিয়ে তাদের নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে। বিএনপির জন্ম হয়েছিল ‘হ্যাঁ’ ভোটের মধ্য দিয়ে। তারা যদি ‘না’ ভোটে স্ট্রিক্ট থাকে, তাহলে দলটির মৃত্যু হবে ‘না’ ভোটের মধ্য দিয়ে। বিএনপি একটি বড় দল, আমরা বলবো, ‘না’ ভোটের মধ্য দিয়ে নিজেদের মৃত্যুর কবর রচনা করবেন না।’
‘জামায়াত আপার হাউজের পিআর, লোয়ার হাউজে এনে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। কিন্তু গণভোট প্রশ্নে জামায়াত একসময় বিএনপির সঙ্গে একত্র হয়ে যাবে। তবে, আমরা অস্পষ্টতার মধ্যে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে ঠেলে দিতে পারব না,’ যোগ করেন তিনি।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালার খসড়া প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘সংস্কার কমিশন সুপারিশমালা দিয়েছে। ড. ইউনূসের কোর্টে এখন বল। উনি যেহেতু আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়। বলা হয়ে থাকে বিদেশি খেলোয়াড়রা বাংলাদেশে খেলতে এলে পিছলে যায়। কারণ বাংলাদেশের মাঠ পিছলা। কিন্তু এই পিছলা যায়গায় আরও বেশি তেলমর্দন করেন আমাদের আইন উপদেষ্টা। উনি রাজনীতিবিদদের শুধু পিছলা খাওয়াতে চান। আপনারা সুপারিশমালার খসড়া জনসম্মুখে আনেন, তখনই এনসিপি এতে স্বাক্ষর করবে।’


