দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশে আওয়ামী লীগ বলে কোনো সংগঠন নেই। কার্যক্রম নিষিদ্ধ এভাবে বলতে হবে। মাফিয়া বাহিনীর অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।
২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তার ঠিক আগের দিন তিনি বলেন, ‘আজ থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনা সদস্যদের আবার ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার আইন মোতাবেক ঢাকা মেট্রো, চট্টগ্রাম মেট্রো, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর মেট্রো এবং এর বাইরে দুটো জেলায় আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছি, যাতে যে কোনো রকমের অপতৎপরতা অ্যাড্রেস করা যায়।’
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কোনো নাশকতার আশঙ্কা আছে কি না- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। কিন্তু আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ যে মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি, তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তাতে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এ বিবেচনায় আমরা আমাদের সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।’
বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম
একই দিনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী বলে জানান মন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে।’
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে একজন ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নির্ধারণের দাবি জানান। মন্ত্রী দাবিটি বিবেচনার এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের এক প্রতিনিধিদল অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হরিদাস চন্দ্রের রামমন্দির নির্মাণ এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্যের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সকল সম্প্রদায়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আবশ্যক।’
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন যেকোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।


