দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি জানান, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বর্তমানে দেশের একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ব্যবহার, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং মানব ও প্রাণী খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে এএমআর সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম আরো জটিল হয়ে উঠছে।
জীবাণু শনাক্তকরণ ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ওয়ান হেলথ পদ্ধতির আওতায় সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা, জাতীয় এএমআর নজরদারি কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি স্থাপন ও উন্নয়ন।
পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট সরবরাহ, ল্যাবরেটরি জনবলের প্রশিক্ষণ এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে, সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ শতাংশ বিশেষ কোটা চালু রয়েছে।
চলতি শিক্ষাবর্ষে এই কোটার আওতায় মোট ৩৯৪ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।


