নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ‘গণপ্রতিরোধ’ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্য এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘নারীদের শক্তি দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’, ‘নারীদের নিরাপত্তা দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’, আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকদের ঠাঁই নাই-সহ নানা স্লোগান দেন।
সমাবেশে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমার মা-বোনদের ওপর যদি হামলা হয়, আমার মা-বোনদের যদি হেনস্তা করার হুমকি দেওয়া হয়, আর যদি কোনো ধর্ষণ হয়, ধর্ষণের পর যদি বিচার না হয়, তাহলে আমরা আবার রাজপথে নেমে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলব।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী আমাদের আশা ছিল যেই সরকার আসবে, সে সরকার শুধুমাত্র একটি দলের হবে না, কোনো একক বর্গের হবে না। তারা সব মানুষের, সব দলের অধিকার নিশ্চিত করবে। এই সরকার শপথ নেওয়ার পরে ১২ থেকে ১৩ দিন হচ্ছে, কিন্তু তারা দেশের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সাবধান করছি, খুনি হাসিনা এবং তার দোসরদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করতে হবে।’
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যদি ক্ষমতায় থাকতে চান, ভালোভাবে চালাইতে চান, এখনই এই চাঁদাবাজ এবং ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সিরিয়াস হোন। যদি সিরিয়াস না হোন, তাহলে রাজু ভাস্কর্য থেকে এই বিক্ষোভ একদম তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাবে।’
ব্যবস্থা না নিলে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে এবং প্রত্যেকটা ক্যাম্পাস মিলিত হয়ে ছাত-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে ধর্ষক চক্রের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, ক্যাফেটেরিয়া ও কমনরুম বিষয়ক সম্পাদক উম্মে সালমা, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দিন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।


