বিশ্বকাপের প্রথম ১২ ম্যাচে নামের পাশে ছিল না কোনো গোল। সেই খরা কাটিয়ে পরের দুই ম্যাচেই জালের দেখা পেলেন উসমান দেম্বেলে। বস্টনে নরওয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দারুণ এক হ্যাটট্রিক করে সাত দশক আগের স্মৃতি ফেরালেন এই ফরাসি তারকা। দেম্বেলের রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিক এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নরওয়েকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স।
বস্টনে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স ও নরওয়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই উসমান দেম্বেলে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ম্যাচের ৩২ মিনিটের মধ্যেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি, যা গত ৭২ বছরে বিশ্বকাপে ম্যাচের শুরু থেকে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ম্যাচের শুরু থেকে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটি এখনো অস্ট্রিয়ার ইয়েরিখ প্রুবস্টের দখলে। ১৯৫৪ সালের আসরে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে প্রথম ২৪ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। প্রুবস্টের সেই অনন্য কীর্তির পর এই তালিকায় এখন দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিলেন দেম্বেলে।
দলের সেরা তারকাদের বিশ্রামে রেখে শুরুর একাদশ সাজিয়েছিলেন নরওয়ের কোচ। সেই সুযোগ বেশ ভালোভাবে কাজে লাগায় ফ্রান্স। মাঝমাঠ দখলে রেখে ম্যাচের শুরু থেকেই নরওয়ের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ফরাসিরা। পঞ্চম মিনিটেই গোলের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল তারা। বক্সের মধ্যে কুন্দের কাট-ব্যাক ক্লিয়ার হলেও ফিরতি বলে দারুণ শট নিয়েছিলেন কোনে, তবে তা আটকে দেন নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক সেলভিক।
অবশ্য এর তিন মিনিট পরই লিড নেয় ফ্রান্স। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন দেম্বেলে। সামনে থাকা ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে দূরের পোস্টে বুলেট গতির শটে গোল উৎসবের সূচনা করেন তিনি।
গোল পেয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। পরের ১৫ মিনিটে নরওয়ের রক্ষণে আরও অন্তত ৫টি আক্রমণ হানে তারা। সেই চাপের মুখে ম্যাচের ২০তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান দেম্বেলে। তবে পরের মিনিটেই প্রতিআক্রমণ (কাউন্টার অ্যাটাক) থেকে একটি গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় নরওয়ে। নরওয়ের পক্ষে এই গোলটি করেন থেলো ওসগার্ড।
এক গোল পরিশোধ করে নরওয়ে যে স্বপ্ন দেখছিল, ১০ মিনিট পরই তা গুঁড়িয়ে দেন দেম্বেলে। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে অরেলিয়াঁ চুয়ামেনির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে জাল কাঁপিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্রান্স।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকেও সমানতালে আক্রমণ বজায় রেখেছিল ফ্রান্স। নরওয়ে কয়েকবার প্রতিআক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ভাঙতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন মনে হচ্ছিল ৩-১ ব্যবধানেই শেষ হতে যাচ্ছে ম্যাচ, তখন আসে ফরাসিদের চতুর্থ গোল।
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯০+৪ মিনিট) বারকোলার নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে নরওয়ের জালে বল পাঠান দেজিরে দুয়ে। দুয়ের এই চমৎকার গোলে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।


