দেশে দুর্বল সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই একটি রাজনৈতিক দল ভোটে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) দাবি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে এমন ব্যক্তিরাও সংসদে ঢুকে পড়তে পারে, যারা জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য নন।’
শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘দুর্বল সরকার হলে দেশের কী লাভ? লাভ কাদের? দেশপ্রেমিক জনগণ তা ভালোভাবে বোঝেন। সুতরাং আসন্ন নির্বাচনে অবশ্যই একটি শক্তিশালী সরকার গঠন করতে হবে।’
বিএনপি অতীতেও মিত্রদলকে সঙ্গে নিয়ে জোটবদ্ধভাবেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীসহ অনেক দলই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এবারও জোটভুক্ত সব রাজনৈতিক দলকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্বাচন কমিশনকে আমরা লিখিতভাবে জানাব।’
ধানের শীষ জনগণের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রামে–গঞ্জের বহু ভোটার আছেন যারা শুধু ধানের শীষে ভোট দিতে কেন্দ্র যান। সেই প্রতীকে যারা আন্দোলনে ছিলেন, তারা যদি বঞ্চিত হন, তা খুবই দুঃখজনক হবে। এ বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানাব।’
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র আমাদের ভালো চায় না—এ কথা আজ একটি শিশুও বোঝে। তারা নির্বাচন পর্যন্ত নাশকতার পরিকল্পনা করছে। বিমানবন্দর ও বিভিন্ন এলাকার অগ্নিকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ রয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও তাদের দালাল আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস সরকারের পতন ৫ আগস্ট ঘটলেও আমাদের জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম শেষ হয়নি। আমরা দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
ছাত্রদের সামরিক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী রাষ্ট্র যদি সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে, আমরা সামরিকভাবেই মোকাবিলা করব। জনগণকে সেনাবাহিনীতে পরিণত করা হবে। ছাত্রদের সামরিক কর্তৃত্ব দেওয়া হবে, যেন প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করতে পারে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি তুলে তিনি বলেন, ‘সরকারের কিছু উপদেষ্টা অতীতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারী ছিলেন। যাদের রাজনৈতিক পক্ষপাত রয়েছে, তাদের অপসারণ করতে হবে। কেয়ারটেকার সরকারের মুডে কাজ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ থাকতে হবে।’
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সরোয়ার, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, এনপিপির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জোহরা খাতুন জুঁইসহ অন্যান্য নেতারা।


