দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজ জন্মভূমি বগুড়ায় এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাসুন্নেসা খেলার মাঠে আয়োজিত এই জনসভায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং দেশের সামগ্রিক সংস্কার ও উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন।
উন্নয়ন ভাবনা
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর নিজের মাটিতে ফিরে তিনি বাকরুদ্ধ। তিনি ২০০১–২০০৬ মেয়াদে বগুড়ায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা স্মরণ করে বলেন, বগুড়াকে তিনি একটি ‘মডেল জেলা’ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যাতে সেই মডেল অনুসরণ করে দেশের বাকি ৬৩টি জেলাও উন্নয়নের পথে এগোতে পারে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
গত ১৫ বছরের শাসনের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এর ফলে দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ঘোষণা দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে দুর্নীতির ‘টুঁটি চেপে ধরা’ হবে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বগুড়ার উন্নয়ন ও বিশেষ দাবি
জনসভায় বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা, বিমানবন্দর নির্মাণ, সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথ স্থাপন এবং করতোয়া নদী খননের দাবি জানান। জবাবে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠন করা গেলে বগুড়ার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং সব ধরনের নিয়োগ যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে।
দোয়া প্রার্থনা
এদিন মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী প্রখ্যাত চিকিৎসক জুবাইদা রহমান। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে স্ত্রীর অবদানের কথা উল্লেখ করে বগুড়াবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন, যাতে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারেন।
নির্বাচনী বার্তা
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনসহ সারা দেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বক্তব্য শেষ করেন। তিনি স্লোগান দেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন, মোহাম্মদ সিরাজ এবং গাবতলী আসনের প্রার্থী মোর্শেদ মিল্টন। জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো বগুড়া শহর ব্যানার, ফেস্টুন ও ধানের শীষের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।


