পাঁচ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবরে উল্লাসমুখর বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে গুলিতে প্রাণ হারান টঙ্গীর আরিচপুর এলাকার বাসিন্দা মো. কবির (৪৯)। স্ত্রী ও দুই কিশোর সন্তানকে রেখে তিনি আর ঘরে ফেরেননি।
সেদিন কবিরের দুই ছেলে– আসাদুল্লাহিল গালিব (১৪) ও নাহিআন বিন গালিস (১২)– বাবার সঙ্গে মিছিলে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কথা ভেবে কবির ছেলেদের ঘরে রেখে টঙ্গী থেকে মিছিলে অংশ নেন এবং উত্তরার আজমপুর পর্যন্ত যান। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে গুলির শব্দ শোনেন তিনি। দ্রুত বাসায় ফিরে আসার জন্য ছেলেদের ফোনে বলেন, কিন্তু ততক্ষণে তারাও মিছিলে বের হয়ে যায়।
এই সময় পুলিশের ছোড়া একটি গুলি কবিরের নাকের নিচ দিয়ে ঢুকে মুখ ও মাথা ছেদ করে বেরিয়ে যায়। তিনি ঘটনাস্থলেই পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও চিকিৎসার আগেই তার মৃত্যু হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কবিরের স্ত্রী সালমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী খুব সৎ, পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তিনিই ছিলেন আমাদের একমাত্র ভরসা। পুলিশ স্নাইপারের গুলিতে তিনি শহীদ হয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে ওনার নিথর দেহ দেখেছি। একবারও কথা বলা হয়নি।
শহীদ কবিরের লাশ ওই রাতেই গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কিশোরীনগরে দাফন করা হয়। তার দুই ছেলে টঙ্গীর মিরাশপাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। বড় ছেলে গালিব অষ্টম শ্রেণিতে, ছোট ছেলে গালিস ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।
গালিব বলেন, আব্বু সবসময় বলতেন, বড় মানুষ হতে হবে। এখন মনে হয় সব এলোমেলো হয়ে গেছে। গালিস বলে, আব্বু না থাকায় ঘরে মনই বসে না। যারা ওনাকে মেরেছে, তাদের বিচার চাই।
সালমা খাতুন বলেন, ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে বুকটা ফেটে যায়। বিচার চাই, যেন আর কোনো মা সন্তান হারায় না। কবির তাঁর পরিবারে ছিলেন সবার বড় এবং ভরসার প্রতীক। গ্রামে থাকা মা ও ভাইবোনদের খোঁজখবরও তিনিই রাখতেন।
তিনি জানান, সরকার, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছেন।


