যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পরও সিওল তা ‘ঠিকভাবে মানছে না’ বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিবিসির খবরে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘গাড়ি, কাঠ, ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য আরোপিত শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।’ এসব শুল্ককে তিনি ‘রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ’ বা পাল্টাপাল্টি শুল্ক বলে দাবি করেন।
গত অক্টোবর সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে খসড়া বাণিজ্য চুক্তি হয়। এতে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে যার বড় অংশ জাহাজ নির্মাণ খাতে ব্যয় হওয়ার কথা।
পরের মাসে দুই দেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করা মাত্র যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়ার বেশ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে।
সে হিসেবেই চুক্তিটি গত ২৬ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল পার্লামেন্টে জমা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তা পর্যালোচনাধীন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে চুক্তিটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের অভিযোগ, দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা চুক্তিটি অনুমোদনে ধীরগতি দেখাচ্ছেন, অথচ যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি কার্যকরের আগেই দ্রুত শুল্ক কমিয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পায়নি। তবে এমন কোনো ঘোষণা এলে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসতে চায়।
সিওলের পক্ষ থেকে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। তিনি যত দ্রুত সম্ভব ওয়াশিংটনে যাবেন এবং সেখানে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ট্রাম্পের শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণার পর মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক ‘কেওএসপি’ কমে গেলেও, পরে বড় রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলোর শেয়ার ঘুরে দাঁড়ানোয় সূচকটি প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে যায়।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা নিয়েই বৈদেশিক নীতিতে চাপ তৈরির মূল হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন ‘শুল্ক’ আরোপকে। গত শনিবার তিনি হুমকি দেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, তাহলে দেশটির ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হবে।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলে মার্কিন পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে।
পরে অবশ্য তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির’ সম্ভাবনা দেখায় তিনি শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসেন।


