প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ঢাকার ফার্মগেট মোড়ের অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে যান চলাচল।
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের অনুরোধে ও নিহত সহপাঠীর গায়েবানা জানাজার নামাজের জন্য তারা অবরোধ তুলে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যায়।
কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে সকাল ১০টার দিকে তেজগাঁও কলেজের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ফার্মগেট মোড়ে অবস্থান নিয়ে রাস্তার যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
ফার্মগেট মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের তরফ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন তারা নিজেদের ক্যাম্পাসে ফিরে গিয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে, যান চলাচলও স্বাভাবিক।’
ক্যাম্পাসের ভেতরে রাজনৈতিক কোন্দলে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা কলেজ কর্তৃপক্ষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে তেজগাঁও কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবিব হাসান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কোন্দলে আমাদের বড় ভাই নিহত হয়েছেন। সুস্থ শিক্ষার পরিবেশে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধে দুই ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন হাজারও মানুষ।
পোস্তগোলা থেকে মিরপুর বিআরটিএমুখী যাত্রী ফাহিমা বলেন, ‘আমি আমার শ্বাশুড়ি ও বাচ্চাসহ মিরপুর যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে বাস চলাচল থেমে যায়। হেল্পার জানান সামনে রাস্তা বন্ধ বাস যেতে পারবে না। এ কারণে নেমে কারওয়ান বাজার থেকে হেঁটে যাচ্ছি সামনে। ছোট বাচ্চা নিয়ে চলাচল করতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
এতে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা (বিজ্ঞান বিভাগ, সেশন ২০২৪–২৫) ও হৃদয় আহমেদ (মানবিক বিভাগ, সেশন ২০২৪–২৫) এবং আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাত (মানবিক বিভাগ, সেশন ২০২৫–২৬) গুরুতর আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে অবস্থার অবনতি হলে তাদের মধ্যে সাকিবুল হাসানকে মালিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সে মারা যায়।


