আসন্ন বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা কমানো, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে গবেষণা সংস্থা প্রজ্ঞা ও সাংবাদিকদের জোট আত্মা।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তামাকজনিত অকাল মৃত্যু কমবে এবং সরকারের কোষাগারে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সিগারেট ও অন্যান্য তামাকপণ্যের কর পরিস্থিতি বর্ণনা করে নতুন কর কাঠামোর প্রস্তাব তুলে ধরেন গবেষণা সংস্থা প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)-এর হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার।
প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে বিদ্যমান সিগারেটের চারটি মূল্যস্তর কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনতে হবে। এর মধ্যে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের মূল্য ২০০ টাকা বা তার বেশি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন দাম যথাক্রমে ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি জর্দা ও গুলের খুচরা মূল্য নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। সেই সাথে সকল তামাকপণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়।
তামাক কর ও মূল্য বিষয়ক এই বাজেট প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন যে, বর্তমানে তামাক ব্যবহারকারীদের বড় অংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের ভোক্তা। এই দুই স্তরকে এক করে সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা চারের পরিবর্তে তিনে নামিয়ে আনলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী ধূমপানে বিশেষভাবে নিরুৎসাহিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সিগারেট করকাঠামোতে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বর্ধিত রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ওপর বিদ্যমান চাপ মোকাবিলা করার সুযোগ তৈরি হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুহায়মা রব তামাক কর ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন করা হলে কর ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর হয়ে উঠবে।
অ্যান্টি-টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)-এর কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন (বাংলা) মনির হোসেন লিটন, আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী ও প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।


