বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালের আগে ডায়মন্ড কোটিংয়ের নতুন ট্রফি মাঠে এসে পৌঁছেছে হেলিকপ্টারে করে। শুক্রবার ছুটির দিনে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দর্শক ঠাঁসা গ্যালারি, বর্ণিল ধোঁয়া, লাউড মিউজিক। ফাইনাল খেলতে নেমেছে টুর্নামেন্টের সেরা দুই দল চট্টগ্রাম রয়্যালস আর রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ফাইনাল জমাতে আর কী চাই! তবে মাঠের লড়াইয়ে দুই ফলের ফারাক ছিল দৃশ্যমান।
তানজিদ তামিমের দারুণ সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর দেয়া ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হাসান মুরাদ আর বিনুরা ফার্নান্দোর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১১১ রানে গুটিয়ে গেল চট্টগ্রাম। ১৩ বল হাতে রেখে ৬৩ রানের এই জয়ে প্রথমবার অংশ নিয়েই বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন হলো নাজমুল হোসেন শান্তর রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। যদিও ২০১৯ সালের আসরে রাজশাহী রয়্যালস নামে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই পরিকল্পনার ছাপ রেখেছিল রাজশাহী। নিলামের টেবিল থেকে ফাইনালের মঞ্চ, সব পদক্ষেপই ছিল গোছানো। দেশি-বিদেশি তারকাদের নিয়ে গড়েছে শক্তিশালী স্কোয়াড। ছিল প্রতি পজিশনের ক্রিকেটারের জন্য ব্যাকআপও। সবকিছুর ফলাফল রাজশাহী পেল এবারের বিপিএল জিতে।
১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই নেই চট্টগ্রামের টপ অর্ডারের দুই ব্যাটার নাঈম শেখ আর মাহমুদুল হাসান জয়। দারুণ ছন্দে থাকা বিনুরা ফার্নান্দোর বলে বোল্ড হয়েছেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দামী ক্রিকেটার নাঈম। জয়ও ফিরেছেন একই বোলারকে লফটেড ফ্লিকে ক্যাচ তুলে। ৭ বলে ১১ করা হাসান নওয়াজকে বদলি ফিল্ডার মেহেরবের হাত ক্যাচ বানিয়ে চট্টগ্রামের বিপদ বাড়িয়েছেন হাসান মুরাদ।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করা মির্জা তাহির বেগকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এর আগে নিয়েছেন অধিনায়ক শেখ মাহেদীর উইকেটও। তিন ওভার বল করে মাত্র ৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো। তিন উইকেট নেন হাসান মুরাদ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামাটা রাজশাহীর জন্য শাপেবর হয়ে এসেছে। তানজিদ তামিম আর সাহিবজাদা ফারহান প্রথম দুই ওভারে দেখেশুনে খেললেও তৃতীয় ওভার থেকে শুরু করেন আগ্রাসী ব্যাটিং। বিশেষত তানজিদ, এই বিপিএলে একটা ফিফটি ছাড়া বলার মতো ছিল না কোনো পারফরম্যান্স। সর্বোচ্চ ছিল ৭৬ রানের ইনিংস। নিজের সেরাটা দেয়ার জন্য বেছে নিলেন ফাইনালকেই।
রানের খাতা খুলেছেন টুর্নামেন্টের সেরা বোলার শরীফুল ইসলামকে দারুণ এক ফ্লিকে ছক্কা মেরে। পরের বলেও মেরেছেন চার। অথচ শরীফুল নিজের প্রথম ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র এক রান। তবে এরপর থেকে রাজশাহীর রানের চাকা একাই ঠেলেছেন তানজিদ। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লের পর চট্টগ্রামের অফ স্পিনারদের খেলেছেন অনায়াসে। ৬২ বলে ১০০ রানের ইনিংসে ছক্কা মেরেছেন সাতটি। এর মধ্যে ছয়টি মেরেছেন দুই অফ স্পিনার মির্জা বেগ ও শেখ মাহেদীকে। তবে সবচেয়ে বড় চোটটা গেছে, মাহেদীর ওপর দিয়ে। তানজিদের সাত ছক্কার চারটা যে জুটেছে তার ভাগেই।
সব মিলিয়ে তৃতীয় ও দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে বিপিএল ফাইনালে সেঞ্চুরি করার পথে অবশ্য দুইবার জীবনও পেয়েছেন তানজিদ। ডিপ স্কয়ার লেগে তার প্রথম ক্যাচ ফেলেছেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, তানজিদ তখন ব্যাট করছেন ৫৪ রানে। এরপর ৮৮ রানে শর্ট কভারে তার দ্বিতীয় ক্যাচ ফেলেন আসিফ আলী, সেবার বোলার ছিলেন মুগ্ধ।
যদিও সেঞ্চুরির পর ইনিংস আর টেনে নিতে পারেননি তানজিদ। ৬ চার ও ৭ ছক্কায় ৬১ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলে ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে ডিপ থার্ড ম্যানে আমির জামালের ক্যাচ দিয়ে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার। তানজিদের রাতে তার সহযোদ্ধা ছিলেন ফারহান। ওপেনিংয়ে গড়েছেন ৮৩ রানের জুটি, যার মধ্যে ৫২ রানই এসেছে তানজিদের ব্যাট থেকে। ব্যক্তিগত ৩০ রানে ফারহান ফেরার পর ১৫ বলে ২৪ করেছে কেইন উইলিয়ামসন। দুটি করে উইকেট নেন মুগ্ধ ও শরীফুল।


