হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারের সময় ‘মব ভায়োলেন্স’ এর অভিযোগ তুলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে বৈধ সিট ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ডাকসুর ভিপি প্রার্থী জালাল আহমেদ ওরফে ‘জ্বালাময়ী জালাল’।
বৃহস্পতিবার জালালের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন (মুন্সী বেল্লাল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর এবং মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষের নিকট এই লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীনসহ কয়েকটি হলে বহিরাগত ও শিক্ষাকাল অতিক্রান্ত শিক্ষার্থীরা অবৈধভাবে অবস্থান করছে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর গত ৮ এপ্রিল ২০২৫-এর মধ্যে হল ত্যাগের নোটিশ দেওয়া হলেও তারা তা মানেনি। এর মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম জানুয়ারিতে পরীক্ষা শেষ করেও আট মাস ধরে মুহসীন হলে ৪৬২ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, ২৬ আগস্ট রাত ১২টা ১৫ মিনিটে কক্ষে ফেরার পর ভিপি প্রার্থী জালাল আহমেদের সঙ্গে রুমমেট রবিউল ইসলামের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রবিউল পুরোনো টিউবলাইট দিয়ে জালালের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে গিয়ে দুজনেই আহত হন।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ‘ঘটনার পর রবিউল ইসলাম ‘বিভিন্ন সংঘঠনে অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগ’ নেতাদের নিয়ে রুমের বাইরে মব তৈরি করে জালাল আহমদকে হত্যার চেষ্টা করেন। তিনি প্রক্টর ও আবাসিক শিক্ষককে বিষয়টি জানান, কিন্তু এরপরও মব জানালা ভেঙে কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে।’
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশের সহায়তায় জালাল আহমদকে শাহবাগ থানায় নেওয়ার সময় মব পথ অবরোধ করে তাকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে হত্যার চেষ্টা চালায়, নোটিশে বলা হয়।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে জালাল আহমদকে ফাঁসানো হয়। তদন্ত ছাড়া প্রভোস্ট তাকে হল থেকে বহিষ্কার করেন। মবের আঘাতে আহত হলেও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। প্রশাসন ও পুলিশ তার বক্তব্যও শোনেনি, বরং শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।’
লিগ্যাল নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি পেশ করা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখিত দাবিগুলো হলো-১. ‘মব সন্ত্রাসে’ জড়িত সকলকে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া ২. জালাল আহমেদের বাতিল করা বৈধ সিট ফিরিয়ে দিয়ে তার ‘পূর্ণ নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করা এবং ৩. হাজী মুহম্মদ মুহসীনসহ কয়েকটি হলে ‘অবৈধভাবে অবস্থান করা বহিরাগত ও শিক্ষাকাল অতিক্রান্ত শিক্ষার্থীদের’ বের করে দেওয়া।


