ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ ও ক্ষুদ্র দোকান ঘিরে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও উচ্ছেদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ছাত্রদলের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি যাচাই করতে চার সদস্যের একটি ‘সত্যানুসন্ধান তদন্ত কমিটি’ গঠনের কথা টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সই করা আবেদনপত্রে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে ‘বিতর্কিত’ ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচনের পর থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা ছোট দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
কতিপয় ‘বিতর্কিত’ ডাকসু প্রতিনিধি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে এবং সিন্ডিকেটের বাইরের দোকানগুলোকে ভাঙচুর এবং উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয় অভিযোগপত্রে।
এ ছাড়া, শনিবার রাতে প্রায় দেড় মাস আগের একটি ভিডিও কাটছাঁট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ তৈরি করে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন দলের নেতারা।
এ সময় ক্যাম্পাসে ছোট ব্যবসা ও দোকানপাট পরিচালনার নিয়ম-নীতি স্পষ্ট করে প্রচার করা এবং অভিযুক্ত ডাকসু প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল শাখা।
রবিবার রাত ৮টার মধ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এদিকে ছাত্রদলের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মিরাজ কোবাদ চৌধুরী (সহকারী প্রক্টর)। সদস্যরা হলেন ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী (সহকারী প্রক্টর), অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া (সহকারী প্রক্টর) এবং ফাতেমা বিনতে মুস্তফা (এস্টেট ম্যানেজার, ভারপ্রাপ্ত) যিনি সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটিকে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ দাখিলের পর সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি ছাত্রদলের সেক্রেটারি নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগের একটি ভিডিওর ঘটনাকে সামনে এনে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।’
‘১২ই ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগকে কেন্দ্র করে যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটিকে বিতর্কিত করতেই পুরোনো ঘটনাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’ বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদুজ্জামান শিপন আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রাম্যমাণ ও ভাসমান দোকানগুলো কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কারা জড়িত এবং প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি কী-তা জানতে প্রশাসনের কাছে যাওয়া হয়েছে। কিছু তথাকথিত শিক্ষার্থী রাতবিরাতে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ও ঐতিহ্যকে কলুষিত করছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক।’
তদন্ত সাপেক্ষে ছাত্রদলের কোনো নেতা বা কর্মী এতে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ালে ভবিষ্যতে নীরব থাকা হবে না এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নাহিদুজ্জামান শিপন।
এ সময়, তাদের দাবির পক্ষে হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ আদান প্রদান, ভিডিওসহ নানা ধরনের তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেন ছাত্রদলের নেতারা।
এর আগে, শনিবার গভীর রাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ করেন ডাকসু সম্পাদকের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ছাত্রদলের কর্মীরা। ডাকসু নেতারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের ছাত্রদলের সদস্য সাঈদ হাসান সাদ ও তার বন্ধু আবিদ আবদুল্লাহ ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজির উদ্দেশে ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে ভাঙচুর চালান। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ছাত্রশক্তি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।


