দেশের সবচেয়ে বড় আইনজীবী সমিতি ঢাকা বারের নির্বাচনে ২১ হাজার ৭৩১ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ৭ হাজার ৬৯ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে নির্বাচনের প্রথন দিন বুধবার ভোট দেন ২ হাজার ৭৫৯ জন ভোটার। বৃহস্পতিবার ভোট দেন ৪ হাজার ৩১০ জন। শতকরা হিসেবে ৩৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। এটি গত পাঁচ নির্বাচনে সর্বনিম্ন ভোটার উপস্থিতি।
বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শেষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আইনজীবীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশানার জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর ভোট গণনা শুরু হবে। ভোটার স্লিপগুলো ঠিকভাবে সিরিয়াল করে গণনা শুরু হবে। সেক্ষেত্রে শুক্রবার রাত অথবা শনিবার সকালে ফলাফল ঘোষণা হতে পারে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের ছায়া আছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা এবার প্যানেল দিতে পারেননি। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের প্যানেল পরস্পরের মোকাবিলা করেছে।
বিএনপি সমর্থকদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ, যারা লড়ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (নীল প্যানেল) ব্যানারে। জামায়াত সমর্থকদের সঙ্গে জোট করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থক আইনজীবীরা, যারা লড়ছেন আইনজীবী ঐক্য পরিষদের (সবুজ প্যানেলে) ব্যানারে।
কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই প্যানেলের ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ও স্বতন্ত্র ৯ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে লড়াই করেছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়। নির্বাচন কমিশনেও দলটির নিবন্ধন স্থগিত হয়। এ কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি।
তবে আইনজীবীদের নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হয় না। এ কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের কোনো প্যানেলে অংশ নেওয়ার আইনি বিধিনিষেধ নেই। তবে আওয়ামী লীগ অনুসারীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীও হতে পারেননি মনোনয়ন ফরম না দেওয়ায়।
আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, ‘এই পাতানো নির্বাচন নিয়ে আমাদের আগ্রহ নেই। এ কারণে আইনজীবীরা ভোট দিতে যাচ্ছেন না। অনেকে মবের ভয়েই ভোট দিতে আসেননি।’
আরেক আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহিন বলেন, ‘যেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়নি, সেই নির্বাচন কখনো সুষ্ঠ হতে পারে না। এই ধরনের এককেন্দ্রীক নির্বাচন আমরা বর্জন করেছি। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন কখনো অংশগ্রহণমূলক হতে পারে না।’
২০২৪-২৫ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সবশেষ নির্বাচনে ২৩ পদের মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১ পদে জয় পায় আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা। গণঅভ্যুত্থানের পর বিজয়ীরা আর আদালতে আসতে পারছেন না। সেই সময়ে তাদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোটের যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তারা দায়িত্ব নিয়ে সমিতি পরিচালনা করছেন।


