চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও হামলার অভিযোগে গত ১১ মাসে বিএনপি চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। তবে বেশ কিছু নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর অনেকেই দলীয় পদে ফিরে এসেছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এক ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি আজিমপুর কবরস্থানে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু আট মাস পর ৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ওই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়, যা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ ছাড়া, কয়েকটি থানার কমিটি ঘোষণা করার পর পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আজিমপুর কবরস্থানে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ২৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিনকে যৌথবাহিনী গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাকিব নামে এক ব্যক্তি বাদি হয়ে লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলার বিচারাধীন অবস্থায় ২ জানুয়ারি, ২০২৫, আমিনুল ইসলাম আমিনকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
আট মাস পর ৯ সেপ্টেম্বর আমিনুল ইসলামের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। একই দিনে লালবাগ থানার অন্তর্গত ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের নির্দেশে তিনটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কমিটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু। আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।
এদিকে, কবরস্থানে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অভিযোগের পর বহিষ্কার করা হলেও পরবর্তীতে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে শীর্ষ নেতাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানিয়েছেন, আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে যেই অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, সেই মামলার বাদী আদালতে অ্যাফিডেভিট করে অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন। বাদী বলেছেন, তিনি যে আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, সেই আমিন আর এই আমিন এক ব্যক্তি নন। আমিন পুরোনো ত্যাগী কর্মী ছিলেন এবং এক সময় ছাত্রদল করতেন। এই বিবেচনায় তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ২৪টি থানার মধ্যে ২০টি থানার কমিটি সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে। বংশাল থানার কমিটি নিয়ে নাখোশ হয়ে বংশাল থানার ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার পদত্যাগ করেছেন। নিউমার্কেট, হাজারীবাগ এবং ধানমন্ডি থানার ঘোষিত কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের আপত্তি রয়েছে।
দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু জানিয়েছেন, ইয়াকুব সরকার ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও লিখিত কোনো আবেদন করেননি। কয়েকটি থানার ঘোষিত কমিটি নিয়ে কিছু নেতাকর্মীর অভিযোগ থাকলেও, তা গুরুতর নয়। ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, লালবাগ ও চকবাজার থানা কমিটি ঘোষণা এখনো বাকি রয়েছে।


