ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ৭ কার্যদিবসেই অধ্যাদেশ!

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ৭ কার্যদিবসেই অধ্যাদেশ!
Advertisement
Advertisement

অধ্যাদেশ জারির দাবিতে শিক্ষার্থীদের ব্লকেডে দিনভর ঢাকার সড়কে দুর্ভোগের পর জানা গেল সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকেবি) অধ্যাদেশ জারি হতে পারে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে।

আগামী মঙ্গলবার অথবা বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের খসড়াটি অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। এরপর রাষ্ট্রপতি সই করলেই চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমোদনের পর লেজিসলেটিভ বিভাগের পর্যবেক্ষণ শেষে দুই থেকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে অধ্যাদেশ জারির করার রেওয়াজ আছে। সে হিসেবে চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই এই অধ্যাদেশ জারি হওয়ার কথা।

প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম জানান, ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের খসড়াটির ভাষাগত ত্রুটি বিচ্যুতি ঠিক করার কাজ এরই মধ্যে শেষ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংষ্কার ও গবেষণা অনুবিভাগ। অধ্যাদেশের খসড়ায় সঠিক ও প্রমিত বানান ও শব্দের ব্যবহার নিশ্চিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ফাইল পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের খসড়াটি কোন পর্যায়ে আছে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, খসড়াটির আইনগত বিষয়াদি বিশ্লেষণ করছে আইন মন্ত্রণালয়।

তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর জন্য খসড়াটি প্রস্তুত। আগামী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস অর্থাৎ রোববারই ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

সূত্র বলছে, খসড়াটি বৃহস্পতিবারই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দিন শেষ হয়ে যাওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন

আগামী মঙ্গলবার বা বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়াটি অনুমোদন পেলে সরকারের লেজিসলেটিভ বিভাগ এটির ওপর একটি পর্যবেক্ষণ দেবে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে ফাইল চলে যাবে।

সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমোদনের পর দুই থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করা হয়। সেই হিসেবে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি হতে পারে।

সম্প্রতি ঢাকার সাতটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে ফের রাজপথে নামেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার এবং বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করায় বিড়ম্বনার শিকার হন লাখো মানুষ।

গত ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তবে অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় বিভিন্ন জটিলতায় ঠিক সময়ে তাদের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এ বছরের শুরু থেকে তাদের শ্রেণি কার্যক্রম চালু হলেও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এরই মধ্যে কিছুটা পিছিয়ে গেছেন তারা।

এমনকি বিদ্যমান অস্থিরতার কারণে চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এখনো ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমই শুরু করা সম্ভব হয়নি। তাই শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে যত দ্রুত সম্ভব ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তবর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘অধ্যাদেশ জারির জন্য চূড়ান্ত কার্যক্রম সম্পন্নের দায়িত্ব আসলে মন্ত্রলায়ের। একটি দক্ষ টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আমার জানা মতে আর একটি বা দুটি ধাপ সম্পন্ন হলেই চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি হতে পারে।’

অধ্যাদেশের খসড়ার পক্ষে-বিপক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় ক্ষতি হয়েছে শিক্ষার পরিবেশের। গত শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। তাদের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করতেও দেরি হয়েছে।

এমনকি সেই অনিশ্চয়তা থেকেই এবার নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম এখনো শুরু করেনি প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসন। তাই দ্রুত অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সব অনিশ্চয়তা দূর করা প্রয়োজন বলে মনে করেন অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।

তিনি আরো বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। যত দিন যাবে, সবকিছু ততই নির্বাচনকেন্দ্রিক হয়ে পড়বে। তাই অন্তবর্তী সরকার যত দ্রুত সম্ভব এই অধ্যাদেশ জারি করবে বলে আশা করছি।’

অধ্যাদেশ জারি হলেই সব অনিশ্চয়তা দূর করে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাস্তব অর্থে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।

তিনি বলেন, ‘অধ্যাদেশ জারির পরেই নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে। একমাসের মধ্যে শ্রেণি কার্যক্রমও শুরু করার পরিকল্পনা আছে। এছাড়াও আগের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা যতটুকু পিছিয়ে আছেন, সেটা চার মাসের মধ্যেই কভার করা সম্ভব হবে।’

মূলত, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিটি কোন মডেলে চলবে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

স্কুল মডেল নাকি হাইব্রিড মডেলে চলবে তা নিয়ে শুরু থেকেই পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশের পর রাজপথে গড়ায় তাদের আন্দোলন। উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়ার মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়নের পর তা পরিমার্জনও করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের উদ্যোগে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad