ঢাকার ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে মো. ওবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম শাহীন আলম (২১) । তিনি মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী। মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিকে শনাক্তের পর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ও সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের একজন কর্মকর্তা শনিবার রাতে এসব তথ্য জানান।
নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি পল্টনের গণস্বাস্থ্য হোমিও নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকর্তা ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছেন, ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো করে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফেলা হয়। এর আগে, শুক্রবার রাত ২টার দিকে এবং শনিবার সকালে রাজধানীর বাইতুল মোকাররম, জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকা এবং কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বিচ্ছিন্ন দুই পা ও দুই হাত উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার রাতে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকার ময়লার স্তূপ থেকে মরদেহের মাথা উদ্ধার করা হয়।
সবশেষ রোববার ভোরের দিকে সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে মরদেহের আরও একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মরদেহের ছয়টি খণ্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকি একটি অংশ উদ্ধারের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ জানান, ঘটনায় জড়িত মূল ঘাতককে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। নিহত ওবায়দুল্লাহ আটক শাহীনের রুমমেট ছিলেন। শাহীনকে দিয়ে প্রায়ই নানা ফরমায়েশী কাজ করাতেন ওবায়দুল্লাহ।
নানা কারণে ওবায়দুল্লাহর ওপর বিরক্ত ছিলেন শাহীন। ঘটনার দিন রাতে শাহীন ঘুমানোর চেষ্টা করলে ওবায়দুল্লাহ উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলা শুরু করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে শাহীন রান্নাঘর থেকে চাপাতি এনে ওবায়দুল্লাহকে আঘাত করে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরা করে কালো পলিথিন ব্যাগে ভরে সিএনজিতে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ফেলেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।


