সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। তাদের অন্যতম দাবি–ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষকে আগুন, লুটপাট ও মিথ্যাচারের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো তুলে ধরেন সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় ড্যাফোডিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং, সংঘর্ষের পর থেকে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সাইবার বুলিং চালানো হচ্ছে।
ইংরেজি বিভাগের ৬০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো–ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে আগুন, লুটপাট ও মিথ্যাচারের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে।
এ ছাড়া, সংঘর্ষে আহত সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও যানবাহনের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সংঘর্ষে জড়িত ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।
এ ছাড়াও, হামলার রাতে বারবার সাহায্য চাইলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য না পাওয়ার কারণ খুঁজে দেখতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশনের (এপিইউবি) সভাপতি সবুর খানের নীরবতা পক্ষপাতমূলক, তাকে অপসারণ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চান, তবে দাবিগুলো পূরণ হওয়ার পরই উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান একসঙ্গে শুরু হতে হবে।
যদি এসব দাবির বিষয়ে নিরপেক্ষ সমাধান না আসে, তবে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।
গত ২৬ অক্টোবর থুথু ফেলাকে কেন্দ্র করে ড্যাফোডিল ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। রাতভর চলা ওই সংঘর্ষে আহত হন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। সিটি ইউনিভার্সিটির ভবন ও পরিবহনে আগুন, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ই সাভার মডেল থানায় আলাদা আলাদা মামলা করে।


