পোলিং এজেন্ট নিয়োগে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন থেকে এক ধরনের পক্ষপাত কাজ করছে বলে অভিযোগ করছেন কিছু প্রার্থী। এমনকি পোলিং এজেন্ট নিয়োগের যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করছেন অনেকেই।
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট আরেক কেন্দ্রে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পোলিং এজেন্ট কীভাবে দেওয়া হয়েছে এর যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ভোট গণনার সময় কি কেবল পোলিং এজেন্টরা উপস্থিত থাকবেন, এই বিষয়ে কিন্তু স্পষ্ট বার্তা আমাদের দেওয়া হয় নাই। তাই ভোট গণনার সময় ওপর থেকে ঠিক করে দেওয়া পোলিং এজেন্ট থাকলে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা থেকে যায়।’
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদপ্রার্থী রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা অভিযোগ করেন, ‘একজন প্রার্থী প্রতিটি কেন্দ্রে একজন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে পারে। আমি আটজনের লিস্ট পাঠালেও আমার মাত্র দুইজনকে এপ্রুভ করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার অভিযোগ করেছেন, ‘পোলিং এজেন্ট নিয়োগে “ফেভারেটিজম” করেছেন নির্বাচন কমিশন।’
এর আগে সকালে জিএস প্রার্থী খায়রুল আহসান মারজান অভিযোগ করেন, ‘ইউল্যাব কেন্দ্রে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে এজেন্ট ঢুকিয়েছে পাঁচজন। অথচ আমাদের প্যানেল থেকে একজন এজেন্টকে কার্ড থাকা সত্ত্বেও বের করে দিচ্ছে। গিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেও কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনার কোনো জবাব দিচ্ছে না। এটা একটা প্রহসনের ডাকসু হতে চলেছে।’

দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (ডাকসু) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে চলছে এই ভোটগ্রহণ।
ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। শুধু সদস্যপদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সর্বাধিক ২১৭ জন প্রার্থী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট এক হাজার ৩৫ প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। যাদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন।
ভোটাররা ব্যাগ, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইস, পানির বোতল বা তরল কোনো পদার্থ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ’, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, বাম জোট সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’সহ পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে প্রায় ১০টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে।
ডাকসু নির্বাচনের ভোট গণনা হবে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে ফল গণনা দেখানো হবে। সবশেষে সিনেট ভবন মিলনায়তনে সব কেন্দ্রের মোট ফল ঘোষণা করা হবে।


