জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জিয়াউর রহমানের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। তিনি বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটি ভোগ করছেন।
মঙ্গলবার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেয়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর সাবেক এই এএসপির আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, মো. জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ৪ কোটি ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৯৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও নিজের দখলে রেখে এক কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার ২৪৯ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু এ সংক্রান্ত তথ্য গোপন ও একাধিক ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন করার অপরাধ করায় দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করেন। তিনি একজন আয়কর দাতা।
দুদক মনে করেন, তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির মূল আয়কর নথির শুরু হতে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় মূল রেকর্ডপত্রসহ তথ্য জব্দ করা প্রয়োজন।
এছাড়া একই আদালতে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খান মো. আক্তারুজ্জামানের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম এই জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
আবেদনে বলা হয়, আক্তারুজ্জামানের সম্পদ বিবরণী যাচাই বা অনুসন্ধান চলমান। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. আক্তারুজ্জামানের নিজ নামে বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তিনি অবৈধভাবে অর্জিত এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি সম্পদ হস্তান্তর করে বিদেশে পালিয়ে গেলে অভিযোগে উল্লিখিত বিভিন্ন দুর্নীতির রেকর্ডপত্র এবং সম্পদ বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাই তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক করা একান্ত প্রয়োজন।


