ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করায় ‘শুকরিয়া আদায়’ করবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো বিজয় মিছিল হবে না।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রশিবির ‘শুকরিয়া আদায়ে’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: শুকরিয়া আদায় করে দোয়া মাহফিল ও শব্বেদারি (নৈশ ইবাদত) এবং শহীদদের কবর জিয়ারত ও শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে সাক্ষাৎ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ কৃপায় ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত “ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট”-এর বিজয়ের মাধ্যমে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বিজয়ী হয়েছে। এ নির্বাচনে যারা বিভিন্ন প্যানেল থেকে ও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মহান আল্লাহ তায়ালা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্বের আমানত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যথাযথভাবে রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমীন।’

ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ প্রার্থীরা ২৮টি পদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২৩টি পদেই বিজয়ী হয়েছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় সিনেট ভবনে ডাকসুর চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন।
ভিপি পদে শিবিরের মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), জিএস পদে এস এম ফরহাদ ও এজিএস পদে মহিউদ্দিন খান বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ভিপি পদে সাদিক কায়েম পেয়েছেন সর্বমোট ১৪, ০৪২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫, ৭০৮ ভোট।
জিএস পদে এসএম ফরহাদ ১০, ৭৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫, ২৮৩ ভোট। প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থী মেঘমল্লার বসু পেয়েছেন ৪, ৯৪৯ ভোট। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের আবু বাকের মজুমদার ২, ১৩১।

এজিএস পদে মহিউদ্দীন খান পেয়েছেন ১১, ৭৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ৫, ০৬৪ ভোট।
এছাড়া আরও ২০টি পদে বিজয় লাভ করেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ সময় আচরণ বিধিলঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন প্যানেলের পক্ষ থেকে।
এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। পাঁচ ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ ভোটের বিপরীতে ১৩ ছাত্র হলে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৯১৫ জন।
ডাকসুতে ২৮টি পদের জন্য মোট ৪৭১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪টি। এসব পদে ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন ১, ০৩৫ জন। সব মিলিয়ে এবার ভোটারদের ৪১টি ভোট দিতে হয়।


