ভোটারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়ায় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের সহ সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী উমামা ফাতেমা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে থেকে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা উমামা বলেন, ‘আমরা ভোটারদের থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে ভোট দিচ্ছেন। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগোচ্ছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এখানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগোচ্ছি না। ফলাফল বর্জনের মতো কোনো অবস্থানে আমরা নেই। বরং আমরা চাই সঠিকভাবে যেন নির্বাচন সম্পন্ন হয় এবং সেই অনুযায়ী ফলাফল আসে।’

কোন হল থেকে সবচেয়ে বেশি ভোট আশা করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটের হিসাব এখনও হাতে আসেনি।
ভোটের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ভালো। সবাই আসছেন, ভোট দিচ্ছেন। আমরা চাই এভাবেই যেন সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলতে থাকে।’
ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। শুধু সদস্যপদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সর্বাধিক ২১৭ জন প্রার্থী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট এক হাজার ৩৫ প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। যাদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন।
ভোটাররা ব্যাগ, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইস, পানির বোতল বা তরল কোনো পদার্থ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ’, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, বাম জোট সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’সহ পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে প্রায় ১০টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে।
এবার ডাকসু নির্বাচনের ভোট গণনা হবে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে ফল গণনা দেখানো হবে। সবশেষে সিনেট ভবন মিলনায়তনে সব কেন্দ্রের মোট ফল ঘোষণা করা হবে।
এদিকে, ডাকসু নির্বাচন ঘিরে সোমবার রাত ৮টা থেকে টানা ৩৪ ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথ সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে, যা আগামী বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।


