ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কোথাও স্বচ্ছতার ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে সিনেট ভবনের তিনটি কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
উপাচার্য জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। বিকাল ৪টার পরও লাইনে থাকা শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারবেন।
কার্জন হলে একটি ভোটারকে ভুলক্রমে দুটি ব্যালট দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি পুনরায় তদন্ত করা হবে।’
টিএসসির কেন্দ্রে ‘ক্রস চিহ্ন’ দেওয়া ব্যালট বিতরণের অভিযোগ নিয়েও তিনি বলেন, ‘এখানেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

উপাচার্য বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। আমরা আশা করছি, যারা জয়ী হবেন এবং যারা বিজিত হবেন, সবাই ফলাফল মেনে নেবেন। তারা স্বীকার করবেন যে কোথাও কোনো স্বচ্ছতার ঘাটতি নেই।’
এর আগে বিকেল আড়াইটার দিকে সিনেট ভবনের কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে ভোট দিতে পারছে এবং শেষ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভোট পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।’
ডাকসু নির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, টানা তা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এখন চলছে ভোটগণনা; ফলাফলের জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন সকলে।
ঢাবির ভোট ঘিরে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। শুধুমাত্র আইডি কার্ডধারী শিক্ষার্থী এবং অনুমোদিত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে।
ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। শুধু সদস্যপদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সর্বাধিক ২১৭ জন প্রার্থী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট এক হাজার ৩৫ প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। যাদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন।
ভোটাররা ব্যাগ, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইস, পানির বোতল বা তরল কোনো পদার্থ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ’, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, বাম জোট সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’সহ পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে প্রায় ১০টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে।


