যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৯৪ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে ইউটিউব। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে হামলার পর ট্রাম্পের ইউটিউব অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের অধীনে পরিচালিত ইউটিউবের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন ট্রাম্প।
ইউটিউব জানায়, ট্রাম্পের ইউটিউব অ্যাকাউন্ট ‘স্থায়ীভাবে’ বাতিল করা হয়নি। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর ২০২১ সালে তার অ্যাকাউন্টে নতুন কোনো ভিডিও আপলোডে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা নেওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে আইনি ঝামেলা মেটাতে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সেগুলোরই একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। মামলার নিষ্পত্তির চূড়ান্ত চুক্তি অনুযায়ী, অ্যালফাবেট ক্ষতিপূরণের ২২ মিলিয়ন ডলার ট্রাম্পের বাছাইকৃত একটি অলাভজনক সংস্থায় দেবে। ওই সংস্থার নাম ‘ট্রাস্ট ফর দ্য ন্যাশনাল মল’।

হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিকল্পিত ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বলরুম নির্মাণে এই অর্থ খরচ করা হবে। প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট আয়তনের বিলাসবহুল ওই ভবনটির নির্মাণকাজ ২০২৯ সালের জানুয়ারির আগেই শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
বাকি ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার মামলার অন্য বাদীদের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন লেখিকা নাওমি উলফ এবং আমেরিকান কনজারভেটিভ ইউনিয়ন।
অন্যদিকে, মামলা নিষ্পত্তির পরেও গুগল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা কোনো বেআইনি কাজ করেনি। এমনকি ট্রাম্পের সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তি তাদের নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আনবে না। প্রতিষ্ঠানটি কেবল অর্থ দিয়েই মামলা নিষ্পত্তি করেছে।

২০২১ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্প ইউটিউব ছাড়াও মেটা (ফেসবুকের মূল কোম্পানি) এবং এক্সের (সাবেক টুইটার) বিরুদ্ধেও মামলা করেছিলেন। এই বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ‘রক্ষণশীল মতপ্রকাশের’ মাধ্যমে রিপাবলিকান সমর্থকদের দমনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ করার উদ্দেশে তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তি করে মেটা কর্তৃপক্ষ। তারা ট্রাম্পকে ২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়। এরপর ফেব্রুয়ারিতেই ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়ে ট্রাম্পের মামলার নিষ্পত্তি করে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ধনকুবের ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্স।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, ট্রাম্পের সঙ্গে আইনি সংকটের নিষ্পত্তির মাধ্যমে নামকরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই উদ্দেশে ২০২৪ সালের নির্বাচনে জেতার পর গুগল, মেটাসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের অভিষেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।


