রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাতে আহত করার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে র্যাব পাঁচজন এবং পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
র্যাব জানায়, হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ে স্থানীয় দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে সোমবার বিকালে মহাখালীতে এই হামলা চালানো হয়। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রুবেল নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আহমদের ওপর এ হামলা চালায়।
র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শরিফুল আলম করিম, আমিনুল ইসলাম কালু, সালাউদ্দিন বদি, সাজ্জাদ এবং আরিফুজ্জামান। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বনানী থানা পুলিশ ইউসুফ আলী ও নেছার আহমেদ নামে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ে স্থানীয় ‘রুবেলের ইএম ট্রেডার্স’ এবং ‘মোনায়েম গ্রুপ’-এর মধ্যে বিরোধ চলছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ভয় দেখাতে মালয়েশিয়া থেকে রুবেলের দেওয়া নির্দেশে মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায়।
হামলায় আহমদ হোসেনের হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে বনানী থানায় অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার মূল কারণ হিসেবে টেন্ডার সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এতে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রুবেলের পক্ষে দেশে থাকা করিমসহ অন্যরা এই হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।


