কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে চলমান অস্থিরতা, মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু আফনানের আহত হওয়া এবং সীমান্তের নাফ নদীতে মিয়ানমারের পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে জেলের পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে মশাল মিছিল করেছে স্থানীয় ছাত্রজনতা ও সচেতন নাগরিকরা।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং বাজারে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ছাত্রজনতা অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি হোয়াইক্যং বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সীমান্তে সহিংসতা বন্ধ, নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা ও সুরক্ষার দাবিতে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
মিছিল চলাকালে বক্তারা বলেন, সীমান্তে সহিংসতা ও অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে নিরীহ মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
টেকনাফ হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মিছিল চলাকালে প্রায় এক ঘণ্টা প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি ও মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় নাফ নদীতে স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি এক জেলের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা স্থলমাইনটি পুঁতে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে রবিবার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় আফনান (৯) নামে এক শিশু। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।


