কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সাম্প্রতিক অপহরণ বৃদ্ধির প্রতিবাদে ও অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার বিকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর এলাকায় স্থানীয় লোকজন প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন হাতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর। অপহরণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচিকে যৌক্তিক মন্তব্য করে তিনি জানান, অপহরনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলছে। তিনি সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
পরে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে মেজর সিনহা চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাহারছড়া পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানে প্রতিদিন পর্যটক আসতেন। এখন অপহরণের ভয়ে পর্যটকেরা আসতে সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয় নারী-শিশুরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এরই মধ্যে অপহরনের শিকার হয়ে জিম্মি ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান বক্তারা।
গত রোববার সন্ধ্যায় বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী পূর্বপাড়ায় খেলার সময় ছয় শিশু-কিশোরকে অপহরণ করে পাহাড়কেন্দ্রিক সশস্ত্র অপহরণকারীরা।
পরে দুজন কৌশলে পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও চারজন এখনো জিম্মি অবস্থায় রয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে, একই এলাকায় আরও কয়েকজন অপহরণের শিকার হন।
স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি বাহারছড়া এলাকায় অপহরণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। গত এক বছরে টেকনাফের বিভিন্ন স্থান থেকে ২৬৪ জন অপহরন হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। এদের বেশিরভাগ মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন।
অন্যদিকে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গত ২১ মাসে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৭২ জন অপহরনের শিকার হয়েছেন। অধিকাংশ মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে এলেও বর্তমানে কতজন এখনো জিম্মি–সে তথ্য তাদের কাছে নেই।


