ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্য এলাকায় দুই তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী–শাহরিয়ার ইসলাম তুষার ও রাকিব আহমেদ সোহান।
বুধবার ভোরে টিএসসি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অভিযুক্তদের একজনের হাতে একটি বাঁশ রয়েছে এবং তিনি এক তরুণীর দিকে লাথি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ভিডিওতে উপস্থিত তরুণীরা মারধরের অভিযোগ করেন। ঘটনার সময় নারীদের সঙ্গে থাকা দুই পুরুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাবি প্রক্টরিয়াল টিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য সংগ্রহ করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এ.কে.এম নূর আলম সিদ্দিকী জানান, টিএসসির ঘটনার পাশাপাশি আরেকটি ভিডিও যাচাই করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা হবে।
শাহরিয়ার ইসলাম তুষার থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক ছাত্র। সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে আসার পর তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের কিছু সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয় বলে দাবি করা হয়।
প্রায় তিন মাস ধরে তিনি নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থান করতেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে একটি ‘সার্কেল’ গড়ে তুলে কিছু মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতেন, যাকে শিক্ষার্থীদের একাংশ ‘মোরাল পুলিশিং’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তুষার। তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘তারা সাধারণভাবে শহীদ মিনারে আড্ডা দিতেন এবং পথশিশুদের সহযোগিতা করতেন।’ তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে রাকিব আহমেদ সোহান বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং জিয়া হলের আবাসিক ছাত্র। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের হয়ে গাজীপুর-১ আসনে নির্বাচনী প্রচার কমিটিতে যুক্ত ছিলেন। সহপাঠীদের দাবি, প্রায় এক মাস ধরে তিনি তুষারের সঙ্গে নিয়মিত শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থান করতেন।
বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বিভাগের ওরিয়েন্টেশন দিনে তার অনুমতি ছাড়া ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছিলেন রাকিব। পরে ব্যাচমেটদের চাপে তিনি ক্ষমা চান।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সম্প্রতি রাতের দিকে টিএসসি ও শহীদ মিনার এলাকায় তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ছিল। ভাইরাল ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।


