টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনের এক হাজার ৬৩ কেন্দ্রের মধ্যে ১৬০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে প্রশাসন, যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। এ সব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক।
জেলা নির্বাচন অফিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দূরবর্তী কেন্দ্র, যানবাহন আসা-যাওয়ায় অসুবিধা, দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং প্রার্থীর বাড়ির সামনে ভোটকেন্দ্র বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলায় মোট ভোট কক্ষ ছয় হাজার ৩৪১টি। এ সব আসনে মোট ভোটার ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। নারী ভোটার ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন, পুরুষ ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৫ জন।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে ১৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে ১৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টি, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে ১২২ কেন্দ্রের ১১টি, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ১১৪ কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) এর ১৩০ কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) এ আসনের ১৫৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৩১টি, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের ১২৬ কেন্দ্রের মধ্যে ১২টি, এবং টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের ১৩১ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, তাদের সব কেন্দ্রগুলো ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনে সব কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ভোট ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে জেলার আট আসনে ২৪ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, আটজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়ন করা হয়েছে।
পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাবসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হবে।


