ঝালকাঠি ও চুয়াডাঙ্গায় আলাদা ঘটনায় দুই স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উভয় ঘটনায় মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার শেকড়কাঠি গ্রামে রোববার রাতে ইভা আক্তার (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইভা ওই গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. শহিদ সিকদারের মেয়ে এবং জুরকাঠি জেড এ ভুট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাতে ইভার মা আছমা বেগম পাশের ঘরে গেলে সে নিজ কক্ষে একা ছিল। পরে তার বাবা বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করে বারান্দার আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ইভার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের দাবি, ঘটনার আগে তার সঙ্গে কারও কোনো মনোমালিন্য বা বিরোধ ছিল না।
নলছিটি থানার ওসি (তদন্ত) মো. আশরাফ আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পেয়ারাতলা গ্রামে সোহানা খাতুন (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সে জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের মোল্লা আব্দুর জব্বারের মেয়ে। পরিবারটি পেয়ারাতলা গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতের খাবার শেষে সোহানা নিজ কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, সে ঘুমিয়ে পড়েছে। পরদিন সকালে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে তাকে আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


