জ্বালানি তেল চুরি ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার নীলফামারীতে তেল চুরির অভিযোগে তিন শ্রমিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই দিনে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অবৈধভাবে মজুদ করা ডিজেল জব্দ করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
শনিবার রাত ৮টার দিকে নীলফামারীতে তেল চুরির অভিযোগে তিন শ্রমিককে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। জেলা শহরের একটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি তেলের লরিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়কের পাশে সন্দেহজনকভাবে একটি তেলের লরি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিয়াজ ভূইয়ার সন্দেহ হয়। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লরিটিতে তল্লাশি চালান। এ সময় একটি জেরিকেন থেকে ১৩ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়।
তল্লাশির পর লরির চালক, হেল্পারসহ তিন শ্রমিককে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তেল চুরির বিষয়টি সামনে আসে বলে জানায় প্রশাসন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে তাদের সবাইকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় অবৈধভাবে গুদামজাত করা ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী বাজারের ‘রাজ স্টোর’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিজেল জব্দ করা হয়।
প্রশাসন জানিয়েছে, একটি স্থানীয় ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সংগ্রহ করে প্রতি লিটার ১২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। সংবাদ পেয়ে অভিযান চালিয়ে এসব ডিজেল জব্দ করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুর রহমানকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা ডিজেল স্থানীয়দের মাঝে খুচরাভাবে ১০৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুজ্জাহান কনক জানান, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


