জেট ফুয়েলের ৮০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
এওএবি এওএবি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জেট ফুয়েল (জেট এ-১)-এর মূল্য প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে, যা দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য অযৌক্তিক ও ক্ষতিকর।
এর আগে অনুষ্ঠিত বিইআরসি সভায়, ৫ মার্চ থেকে ২২ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্ল্যাটস রেটস-এর গড়, জানুয়ারি-জুন সময়ের পরিবর্তিত প্রিমিয়াম, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের অপরিবর্তিত মূল্য বিবেচনায় জেট এ-১-এর দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের মূল্য লিটার প্রতি ১১২ দশমিক ৪১ টাকা থেকে বেড়ে ২০২ দশমিক ২৯ টাকা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য এটি দশমিক ৭৪ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৩২ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এওএবি’র সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং এসব তেল পূর্বনির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখিয়ে এত বড় পরিসরে জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি করা অযৌক্তিক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি অত্যধিক। যেখানে ভারত ও নেপাল জেট ফুয়েলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে, সেখানে পাকিস্তানে ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এওএবি মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সসমূহ মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপাবে। মূল্যবৃদ্ধি ও কর বৃদ্ধির ফলে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাবে, যা দেশের বিমান চলাচল শিল্পের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে। এমনকি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এওএবি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছে, জেট ফুয়েলের এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হোক, যাতে দেশের এভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।


