সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) সংকীর্ণ কক্ষে নয় বরং আধুনিক সুবিধা সম্বলিত কক্ষে রাখা হয়েছিল। যে কক্ষের আয়তন ছিল ১৭/২২ ফুট। সেখানে ছিল শীততাপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রও।
মঙ্গলবার জেআইসিতে গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের জমা দেওয়া কাগজপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
আবদুল্লাহিল আমান আযমী জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমির গোলাম আজমের ছেলে। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে ঢাকার বড় মগবাজারের বাসা থেকে তাকে সাদা পোশাকের পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পরিবারের। তাদের দাবি অনুযায়ী, এরপর থেকে তাকে ‘আয়নাঘরে’ রেখে নির্যাতন করা হয়।
গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে মুক্তি পান আযমী।
জমা দেওয়া কাগজপত্রে বলা হয়েছে, আমান আযমীকে গুমের ঘটনায় সেনাবাহিনীর যে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে তারা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টই নন। সেনা আইনে তদন্ত আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনেও তাদের তিনজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এরপরেও শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় এই তিন কর্মকর্তাকে দোষী বলা হয়েছে। এদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
তিন কর্মকর্তা হলেন, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী।
শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুনের মামলায় গত ২২ অক্টোবর এই তিনজনসহ দুই মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে তাদের ঢাকা ক্যান্টমেন্টে সরকার ঘোষিত বিশেষ কারাগারে রাখা হয়। সেখান থেকেই মঙ্গলবার হাজির করা হয় ট্রাইব্যুনালে।
আদালতের কাছে জমা দেওয়া কাগজপত্রে বলা হয়েছে, জেআইসিতে থাকার সময় এসি রুমে আরাম-আয়েশে ছিলেন আমান আযমী। তার কক্ষটির আয়তন ছিল ১৭/ ২২ ফুট।
গত বছর সরকার পতনের পর গুমজীবন থেকে ফিরে আযমী ১১ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেনা আইনে গঠিত তদন্ত আদালতের প্রতিবেদনে তার কক্ষের এই বর্ণনাই উঠে এসেছে।
এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার তিন কর্মকর্তার আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ থেকে তাদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।
এর আগে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আগে দাবি করা হয়েছিল, গুমজীবনে আযমীসহ অন্যদের সংকীর্ণ কক্ষে অমানবিকভাবে রাখা হয়েছিল। মানবেতর পরিবেশে দীর্ঘদিন বাস করায় তারা অসুস্থও হয়ে পড়েন।


