জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ঘিরে আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা ও সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম।
এর আগে, বুধবার প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম আংশিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলার শুনানি আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। ওই দিন আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে।
প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানের সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হয়।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল।
তবে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
গত বছরের ৫ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগপত্রের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয় এবং পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয়জন নিহত হন। পরে পুলিশ ভ্যানে করে তাদের মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
নৃশংস ওই ঘটনায় একজন তখনো জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। অভিযোগে বলা হয়েছে, পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এর আগের দিন আরও একজন নিহত হন।
এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করা হয়।


