প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হবে জানিয়ে দেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি বিএনপি এবং দেশের সব গণমানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় দিন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমৃত্যু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অগ্রগতির অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার যে ঐতিহাসিক উত্থান ঘটেছিল, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়েই তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন।’
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথ। আমরা এই গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করেছি।’
জিয়াউর রহমান সব মানুষের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য সৃষ্টি করে জাতীয় সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়ে গেছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শের রাজনীতি করি।’
গণতন্ত্রের প্রতি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন এই দেশটিকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করা হবে। ৫ আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের যে চেতনা, তার আলোকেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা হবে।’
এ সময় তিনি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বলেন, ‘খালেদা জিয়া এদেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি লড়াই ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমরা এখানে এসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য দোয়া করি এবং দেশ ও জনগণের সেবায় নতুন করে অনুপ্রাণিত হই।’


