বঙ্গোপসাগরের জেলে, দুর্গম চরের পরিবার বা পাহাড়ি পথে থাকা ভ্রমণকারী-মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও শিগগিরই তারা বার্তা পাঠাতে পারবেন, যদি আকাশ দেখা যায়।
বাংলালিংক জুনের আগেই দেশের প্রথম স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালুর পরিকল্পনা করেছে, যেখানে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা এলাকাতেও সংযোগ দেওয়া হবে বলে কোম্পানিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
স্টারলিংক মোবাইলের সঙ্গে অংশীদারত্বে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে ৩১ মে সেবাটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক ও কোম্পানি সূত্র বলছে, এপ্রিলের মধ্যেই অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে, ফলে মে মাসের শেষ দিকে সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও সংযুক্ত থাকতে পারবেন, যদি আকাশের দিকে খোলা দৃশ্য থাকে।
গ্রাউন্ড টাওয়ারের ওপর নির্ভর না করে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে এমন এলাকাতেও মৌলিক সংযোগ দেওয়া হবে, যেখানে মোবাইল সিগন্যাল পৌঁছায় না।
সেবাটি বিদ্যমান এলটিই ফোনে চলবে, অর্থাৎ সাধারণ ৪জি স্মার্টফোনেই ব্যবহার করা যাবে, আলাদা কোনো ডিভাইসের প্রয়োজন হবে না।
স্টারলিংক মোবাইলের ৬৫০টির বেশি লো-আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট রয়েছে, যা স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্কের বাইরে যোগাযোগ সক্ষম করতে একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। বাংলালিংক ধাপে ধাপে এই সেবা চালু করবে, শুরুতে থাকবে টেক্সট বার্তা।
প্রথম পর্যায়ে ব্যবহারকারীরা এসএমএস পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারবেন এবং নেটওয়ার্কের বাইরে থাকলেও ওভার-দ্য-টপ মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন। পরবর্তী পর্যায়ে ধীরে ধীরে ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা যুক্ত করা হবে।
এই উদ্যোগ পাহাড়ি এলাকা, নদীবিধৌত চর, উপকূলীয় দ্বীপ ও সমুদ্র অঞ্চলের মতো জায়গায় সংযোগ ঘাটতি কমাতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে অবকাঠামো গড়ে তোলা কঠিন।
বাংলালিংক বলছে, তাদের বিদ্যমান নেটওয়ার্কের সঙ্গে স্যাটেলাইট স্তর যুক্ত হলে কভারেজের ফাঁক কমবে এবং বিঘ্নের সময় বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে যখন স্থলভিত্তিক নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যায়, তখন এই সেবা যোগাযোগ সচল রাখতে সহায়তা করবে। ‘সংযোগ মানে যত্ন; এটি তখনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যখন এটি মানুষকে যেখানেই থাকুক পৌঁছে যায়,’ বলেন বাংলালিংক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোহান বুসে।
‘আমাদের ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে কিছু এলাকা এখনো প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে,’ তিনি বলেন।
তিনি বলেন, ‘স্টারলিংকের সহায়তায় স্যাটেলাইটভিত্তিক কভারেজ দিয়ে আমরা সেই ঘাটতি পূরণ করতে চাই এবং দেশের সবচেয়ে দূরবর্তী এলাকাতেও মানুষকে সংযুক্ত রাখতে চাই।’
স্টারলিংক মোবাইল ভাইস প্রেসিডেন্ট অব সেলস স্টেফানি বেডনারেক বলেন, এই অংশীদারত্ব দূরবর্তী এলাকায় সংযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, ‘ভিইওএনের সঙ্গে অংশীদারত্বে স্টারলিংক মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তৃতীয় বাজার।’ এই উদ্যোগ ভিইওএন এবং স্টারলিংকের বৃহত্তর চুক্তির অংশ, যার আওতায় ইউক্রেন ও কাজাখস্তানে আগে থেকেই এ ধরনের সেবা চালু হয়েছে।
বাংলালিংক জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি তাদের নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং এতদিন সেবার বাইরে থাকা এলাকায় মৌলিক সংযোগ পৌঁছে দেবে। ‘আকাশ দেখা গেলে নেটওয়ার্কও থাকবে নাগালের মধ্যে,’ বলে জানায় কোম্পানিটি।


