পতিত আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় ৬ মে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, এ আদেশ দেয়।
এর আগে মামলার সাক্ষী হাবিবুর রহমান মল্লিককে আসামিপক্ষের জেরা শেষ হয়। তাকে জেরা করেন আইনজীবী আমিনুল গনি টিটো।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। ২২ এপ্রিল প্রসিকিউশনের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন।
জেরায় হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গোয়েন্দার মাধ্যমে জানতে পারলাম জিয়াউল আহসান আমার ভাতিজাকে হত্যা করেছেন।’
সাক্ষীর এ কথা অসত্য বলে দাবি করেন আইনজীবী টিটো। জেরায় সাক্ষী বলেন, ‘নজরুলের হত্যার পর আমাদের বাড়িতে গোয়েন্দা লোকেরা ঘনঘন আসতেন। একদিন তারা জানিয়েছেন, নজরুলকে হত্যা করেছে র্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসান।’
এ মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ১০৪ জনকে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের মতে, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং এডিজি (অপস্) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে অসংখ্য বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। অগণিত হত্যাকাণ্ড, গুমসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সরাসরি নির্দেশ ও অনুমোদন ছিল। তাকে জানিয়েই তার বিশ্বস্ত র্যাব সদস্যরা এসব অপরাধ করতো।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর মেজর অবস্থায় র্যাবে পোস্টিং পাওয়ার পর থেকে আসামি জিয়াউল আহসান বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ফলে ২০২৪ সালে মেজর জেনারেল হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরের আগ পর্যন্ত তাকে কখনোই মাতৃবাহিনী তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফেরত যেতে হয়নি।
হাসিনার পুরো আমলে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী বা সংস্থায় কাজ করেছেন। পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কোর্স বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করে এবং কোনও ব্যাটালিয়ন, ব্রিগেড বা ফর্মেশন কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই আসামি জিয়াউল মেজর জেনারেল পর্যন্ত পদোন্নতি পান, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় পেশাদারিত্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।


