ফিফা বিশ্বকাপে দুই দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত হাইতিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে মরক্কো। এই রোমাঞ্চকর জয়ে ‘সি’ গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে মরক্কোকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল হাইতি। ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই দলটি প্রথমার্ধে দুইবার লিড বা ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তবে মরক্কো প্রতিবারই দুর্দান্তভাবে লড়াইয়ে ফিরে আসে, যার ফলে ২-২ গোলের সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
তবে বিরতির পর মরক্কোর বদলি খেলোয়াড়রা মাঠে নামলে খেলার চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। আক্রমণভাগের ধার বাড়িয়ে হাইতির রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে ফেলে তারা।
ম্যাচের ৮০তম মিনিটে সুফিয়ান রাহিমির এক চমৎকার ফিনিশিংয়ে ম্যাচে প্রথমবারের মতো লিড নেয় মরক্কো। এই গোলটি পুরো দলকে মানসিক দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে দেয়।
এরপর খেলা শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে গেসিম ইয়াসিন দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করে জয় নিশ্চিত করেন। অবশ্য বলটি গোললাইনের ভেতরে ছিল কি না, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি চেকের পর রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত দেন।
এদিনের ম্যাচে মরক্কোর অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন আশরাফ হাকিমি। তিনি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি অন্য একটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন এবং পুরো ম্যাচ জুড়েই হাইতির রক্ষণভাগে ভীতি ছড়ান।
ম্যাচের শেষ দিকে হাইতি ব্যবধান কমানোর আরও একটি জোরদার চেষ্টা করেছিল। তবে মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো চমৎকার এক সেভে তা নস্যাৎ করে দেন।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয়ের ফলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করল মরক্কো।
অন্য দিকে টুর্নামেন্টে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে বিদায় নিলেও নিজেদের লড়াকু ও সাহসী পারফরম্যান্সের জন্য প্রশংসায় ভাসছে হাইতি। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত মরক্কোকে কড়া টক্কর দিয়ে এক দারুণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই তারা তাদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল।


