রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের নামে নয়জনকে হত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।
প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ৭ জুন শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, এ আদেশ দেয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। তিনি এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আরও এক মাস সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
এ মামলায় মোট আসামি আটজন। এর মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার থাকায় বাকিদের আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তারা আত্মসমর্পণ করেননি, কিংবা তাদের গ্রেপ্তারও করা যায়নি। বাকি গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া।
পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
২০১৬ সালের ২৫ জুলাই কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ি নামক বাড়িতে ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। সেই অভিযানে নয়জন তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যাদের তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
তবে, পরবর্তী সময়ে এই ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘জঙ্গি নাটক’ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি ও বিভিন্ন তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে।


