৯ কোটি রুপির চেক বাউন্স মামলায় আপাতত তিহাড় জেলেই থাকতে হচ্ছে বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে। জামিনের সম্ভাবনা নিয়ে জোর গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত দিল্লি উচ্চ আদালত তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) শোনা গিয়েছিল, তিনি হয়তো জামিন পেতে পারেন। তার ম্যানেজার গোল্ডিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তেমনটাই। গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বলিউডের একাংশ আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছিল। ফলে বৃহস্পতিবারের শুনানিকে ঘিরে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এ পর্যায়ে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার। অর্থাৎ আরও কয়েক দিন তাকে জেলেই থাকতে হবে।
শুনানিতে বিচারপতি স্বরণা কান্তা শর্মা কড়া মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, আদালতের আদেশে নয়, বরং নিজের দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় যাদব জেলে গেছেন। অভিনেতার পক্ষ থেকে বলা হয়, পারিবারিক একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে—এই বিবেচনায় জামিন দেওয়া হোক। তবে আদালত সে আবেদন নাকচ করে।
আইনজীবীর দাবি ছিল, মামলার প্রক্রিয়ায় যাদব ‘ভুল পথে পরিচালিত’ হয়েছিলেন এবং এখন বিষয়টি মিটমাট করতে প্রস্তুত। কিন্তু আদালত জানায়, এ যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারপতি উল্লেখ করেন, যাদব ২০ থেকে ৩০ বার আদালতে হাজির হয়েছেন এবং অন্তত পাঁচবার ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত থেকে নিজেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন। তার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীও ছিলেন। ফলে ‘ভুল বোঝানো হয়েছিল’—এ দাবি টেকে না।
মামলার সূত্রপাত ২০১০ সালে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে যাদব তার প্রযোজিত একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ৫ কোটি রুপি ঋণ নেন। চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধযোগ্য অর্থ দাঁড়ায় ৮ কোটি রুপি।
নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় পরে ৭ কোটি রুপিতে সমঝোতা হয়। অভিযোগ, সেই সমঝোতার অংশ হিসেবে দেওয়া সাতটি চেকই বাউন্স করে। এর জেরেই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়। অভিযোগকারী পক্ষ আদালতে জানায়, পুরো প্রক্রিয়ায় একই আইনজীবী যাদবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং আদালতের সামনে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ফলে অজ্ঞতার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিচারক বলেন, ব্যক্তিগত সহানুভূতি থাকলেও আইনের নীতি উপেক্ষা করা যায় না। জামিন আবেদন আপাতত মুলতবি রেখে অভিযোগকারী পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।


