অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরী।
রোববার ঢাকার নির্বাহী হাকিম আদালত-৩ এর বিচারক আফরোজা তানিয়া এই দুজনের জামিন মঞ্জুর করেন।
অবশ্য আদালতে যাওয়ার আগে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে মেহজাবীন মামলার কথা অস্বীকার করেছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘অনলাইনে আমার নাম ব্যবহার করে কিছু ভিত্তিহীন “মামলা” সংক্রান্ত খবর ছড়িয়ে পড়ছে। আমার সকল সাংবাদিক সহকর্মীদের প্রতি অনুরোধ, দয়া করে কোনো প্রকার যাচাইহীন ও সত্যতা-বিহীন সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন।’
কিছুক্ষণের মধ্যেই মেহজাবীনের স্বামী পরিচালক আদনান আল রাজীব এই পোস্ট শেয়ার দেন। তাদের বন্ধু পরিচালক আশফাক নিপুনও পোস্টটি শেয়ার করেন এবং এ সংক্রান্ত খবরগুলোকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। আরেক চলচ্চিত্র নির্মাতা শিহাব শাহীন আবার এক ধাপ এগিয়ে যান। তিনি মেহজাবীনের বিরুদ্ধে হওয়ার মামলার খবরকে ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও গুজব’ বলেও উল্লেখ করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর রোববার সন্ধ্যায় মেহজাবীনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেওয়ার খবর আসে।

ঢাকার নির্বাহী হাকিম আদালত-৩ এর একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলাটিতে গত ৩ নভেম্বর মেহজাবীন ও তার ভাইয়ের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন তারা উপস্থিত হননি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয় আদালত।
গত ১০ নভেম্বর সেই পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয় ১৮ ডিসেম্বর।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বাদী আমিরুল ইসলামের সঙ্গে মেহজাবীনের পূর্ব পরিচয় ছিল। সেই সুবাদে মেহজাবীন চৌধুরীর ব্যবসায়িক পার্টনার হওয়ার জন্য নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন আমিরুল। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম টাকা ফেরত চান। কিন্তু সেই টাকা না দিয়ে বারবার সময় নষ্ট করা হয়।
আরও পড়ুন: অভিনেত্রী মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
সবশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকালে পাওনা টাকা চাইতে যান আমিরুল ইসলাম। তাকে ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন মেহজাবীন ও তার ভাই।
আমিরুল ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাত চার-পাঁচজন অকথ্য তাকে ভাষায় গালিগালাজ করে।
বাদীর অভিযোগ, মেহজাবীন ও তার ভাই হত্যার হুমকি দেন। তারা বলেন, এরপর তাদের বাসায় টাকা চাইতে গেলে বা বাসার সামনে গেলে মেরে ফেলা হবে।
এ ঘটনা জানাতে আমিরুল সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমিরুল ইসলাম গত ২৪ মার্চ ঢাকার নির্বাহী হাকিম আদালতে মামলা করেন।


