জামায়াত আমিরের বক্তব্য ধর্মান্ধ ফ্যাসিবাদী: বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী

জামায়াত আমিরের বক্তব্য ধর্মান্ধ ফ্যাসিবাদী: বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর লোগো। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যকে সামন্তবাদী, পুঁজিবাদী ও ধর্মান্ধ ফ্যাসিবাদী মানসিকতার নগ্ন প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। সেই সঙ্গে ওই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার সংগঠনের সভাপতি দিলীপ রায় ও সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, “শ্রমজীবী নারীর সামাজিক অস্তিত্বকে ‘পতিতাবৃত্তির’ সঙ্গে তুলনা করার মতো বক্তব্য কেবল নারীর প্রতি ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি সামন্তবাদী, পুঁজিবাদী ও ধর্মান্ধ ফ্যাসিবাদী মানসিকতার নগ্ন প্রকাশ। এ ধরনের বক্তব্য নারীকে সমাজ ও রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার এবং উৎপাদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্র থেকে দূরে সরিয়ে রাখার এক সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল।”

বিবৃতিতে নেতারা আরও বলেন, “নারীরা উৎপাদনের এক অবিচ্ছেদ্য শক্তি এবং সমাজ পরিবর্তনের সক্রিয় সত্তা। সেই নারীদের গৃহবন্দি করে, তাদের উৎপাদন ও রাজনীতি থেকে বাদ দিয়ে বুর্জোয়া শোষক শ্রেণি তাদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার এক চিরায়ত পদ্ধতি অনুসরণ করছে। বর্তমান বাংলাদেশে জামায়াতসহ প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া শক্তিগুলো সেই ঐতিহাসিক শোষণকেই ধর্মীয় ভাষায় বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা নারীর সামাজিক শ্রমকে অস্বীকার করে পুরুষতান্ত্রিক দাসত্বকে চিরস্থায়ী করতে চায় এবং ধর্মকে ব্যবহার করে শ্রেণিশোষণ ও লৈঙ্গিক শোষণকে স্থায়িত্ব দিতে চায়। এই ধরনের বক্তব্য আসলে শ্রমজীবী নারী-পুরুষকে বিভক্ত করার, শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্য ভাঙার এবং ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে শক্তিশালী করার কৌশল।”

আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক’হয়েছে এবং ওই মতামত তার নয় বলে জামায়াত যে বক্তব্য দিয়েছে সেটিকে কৌশল বলে মনে করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।

আরও পড়ুন

সংগঠনটির দাবি, এটি একটি ধামাচাপা দেওয়ার কৌশল মাত্র। কারণ এরকম নারীবিদ্বেষী অবস্থান জামায়াত অতীতেও বহুবার প্রকাশ করেছে। শফিকুর রহমান আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবেন না। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নারীরা আমির পদের জন্য যোগ্য নন, এটি নাকি ‘পুরুষের পদ’। এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, নারীর প্রতি অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তাদের রাজনৈতিক আদর্শের মৌলিক অংশ।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতারা আরও উল্লেখ করেন, ‘কিছুদিন আগে প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মীয় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর আরেকটি দৃষ্টান্ত দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম ঘোষণা দেন যে, তিনি কোনো নারীর সঙ্গে একই অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসবেন না। এর ফলশ্রুতিতে, একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বাসদ মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্তীকে নামিয়ে দেওয়া হয়।’

নেতারা বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ধরনের নারীবিদ্বেষী বক্তব্য ও আচরণ কোনো বিচ্ছিন্ন ‘ব্যক্তিগত ভুল’নয়। এটি ইসলামিস্ট ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলোর মৌলিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। একে ‘হ্যাকিং’বা নানা অজুহাতে আড়াল করার চেষ্টা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।”

শ্রমজীবী নারীর প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতা উসকে দেওয়া সব ধরনের রাজনীতিকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, ‘সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমজীবী নারীসহ সব নারীর পক্ষে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলন জোরদার করতে হবে।’

উল্লেখ্য, শনিবার শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে ঘরের বাইরে নারীদের কাজকে ‘পতিতাবৃত্তির’ সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে পরে জামায়াত সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দলের আমিরের এক্স হ্যান্ডেলটি হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর