সাধারণত আলোচনার টেবিলে বসেই ডিপ্লোমেসি বা কূটনীতি এগিয়ে নেন নেতারা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই কূটনীতির মঞ্চে যুক্ত হয়েছে গাড়িও। আর একেই কারপ্লোমেসি বা গাড়িতে বসে কূটনীতি বলছেন বিশ্লেষকরা।
এর সবশেষ উদাহরণ দেখা গেল নয়াদিল্লিতে। ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের এক দিন আগে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একই গাড়িতে যাত্রা করেন।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শুক্রবার দুই নেতা একই গাড়িতে করে বড় ভারত মণ্ডপম প্রাঙ্গণে আয়োজিত আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনীতে যোগ দেন। এটি ছিল মোদি ও পুতিনের চতুর্থবার একসঙ্গে একই গাড়িতে ভ্রমণ।
এর আগে গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন সামিটের সময় প্রথমবার পুতিনের সঙ্গে একই গাড়িতে যাত্রা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর আরও দুইবার তারা একসঙ্গে গাড়িতে ভ্রমণ করেন।

ভারতের এই আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উৎপাদক ও ক্রেতাদের একত্রিত করার একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির সুবিধা রয়েছে।
এর আগে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি তামিল ভাষার প্রাচীন গ্রন্থ তিরুক্কুরালের রুশ ভাষায় অনূদিত সংস্করণ পুতিনকে উপহার দেন।
রুশ প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে মোদি বলেন, ‘দুই হাজার বছর আগে তিরুবল্লুভর তিরুক্কুরাল রচনা করেছিলেন। এতে মানবজীবনের পুরো পরিসর তুলে ধরা হয়েছে। এটি রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, তিরুক্কুরালের রুশ অনুবাদ দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াবে এবং আমাদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে।’
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোদি লেখেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে তিরুক্কুরালের রুশ অনুবাদ উপহার দিয়েছি, যা মহান তিরুবল্লুভরের চিরন্তন জ্ঞানকে ভাষা ও সীমান্তের বাধা পেরিয়ে ছড়িয়ে দেবে।’
শনিবার নয়াদিল্লির যে সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রিকস জোটের নেতারা সম্মিলিত হবেন, সেখানে একদিন আগেই দুই নেতাকে হাসিমুখে একে অপরের পিঠ চাপড়াতে দেখা যায়।

ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারত-রাশিয়ার বিশেষ ও সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন দুই নেতা। এসব বিষয় দীর্ঘদিনের ভারত-রাশিয়া অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সংঘাতসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতিই এগিয়ে যাওয়ার পথ বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে ভারত প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সবশেষ ভারত সফর করেছিলেন পুতিন। এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুতে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন সামিটে দুই নেতা আরেকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।


